30/04/2013

পোকাদের আত্মীয় স্বজন ( POKADER ATWIYO-SWOJON ) Part 2

    
       পোকাদের আত্মীয়স্বজন
কয়লার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছো তুমি চিরদিনের মতো।

এখানে উৎসব সারারাত হ্যাজাকের আলো ঘিরে—

সকালবেলার সৎকার সমিতির গাড়িতে আমরা তুলে দিতে এসেছি
                    মৃত পোকাদের

মর্গের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি আমরা পোকাদের আত্মীয়স্বজন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
           মেরুণ শহরতলি থেকে

এক
মনে আছে দিদি তোর
মায়ের রক্তের ভেতর
ছুঁয়ে বলেছিলাম তোকে
যদি জন্মাতে পারি

যদি জন্মাতে পারি কখনো
আমার জন্মের বিনিময়ে তবে
ফিরিয়ে দেবো যুবতী মায়ের ঋতু

সেই থেকে আমিই তো শহরে শহরে বিলি করে বেড়াই শীত
আমিই তো জলের মতো বয়ে যাই শহরের ভেতর দিয়ে
                            ভেতর দিয়ে
আমিই তো বালিশের পাশে রেখে দিই
পালকের খেলনা, পালকের গয়না
কানে কানে বলে যাই –
আজ কুয়াশা, মেয়েরা হাত ধরে হাঁটো ছেলেদের

আমিই তো বৃষ্টির মধ্যে জল দিয়ে আসি গাছপালাদের
আমিই তো পকেটে লজেন্স নিয়ে দৌড়ে যাই
            ছেলেমেয়েদের হোস্টেলে

চিৎকার করে বলি—
শাস্তি দেওয়া অন্যায়
শাস্তি দিওনা,
ওরা জলের ছেলেমেয়ে
ওরা হাওয়ার ছেলেমেয়ে
তোমরা বুঝবেনা ওদের ভাষা


দুই
অথচ দ্যাখো, কি আশ্চর্য ভাবে আমাদের সমস্ত চিন্তাভাবনা
                   জড়িয়ে পড়ছে শূন্যতার সঙ্গে
সন্ধেবেলায় আমাদের ঘরের দিকে ভেসে আসছে পেচ্ছাপের গন্ধ
সন্ধেবেলায় আমাদের দিকে নীচু হয়ে উড়ে আসছে
                 আলমারির ওপরের সাদা দেওয়াল

ঠান্ডা মাছের মতো আমাদের নিয়ে আসা হচ্ছে বরফের বাইরে
                 আবার ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে বরফের মধ্যে

যে জীবন আমরা শুরু করেছিলাম হাস্পাতাল থেকে
                সেই জীবন আবার গড়িয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের দিকে

মুখে করে মাংসের টুকরো নিয়ে এসে পুঁতে রাখা হচ্ছে
                        আমাদের জানলার নীচে

আমাদের বিছানায় ইচ্ছে করে পেতে দেওয়া হচ্ছে সাদা চাদর—
আমরা বুঝতে পারছি না কিছুই,

বুঝতে পারছি না কার কাছে গিয়ে ফেরৎ চাইবো আমাদের জীবন



তিন
জরায়ুর ভেতরে শীত সাদা ব্যান্ডেজের মতো—
তবু পাড়ায় পাড়ায় নাচের ইস্কুল,
ডিপ ফ্রিজের দিকে ভেসে যাচ্ছে মেয়েদের হাসিঠাট্টা
মেয়েরা ইতিহাস বইয়ের মতো, বরফের মলাটে ঢাকা

যেটুকু মাংস লেগে থাকে আমাদের নখে,
               সেইটুকুই স্বপ্ন আমাদের—
মাংস মানে শীতকাল
মাংস মানে ভ্রূণ
মাংস মানে ঋতুবন্ধে সাদার্ণ ক্লিনিক

এবার গ্রীষ্মের ছুটিতে আমরা বেড়াতে যাবো মাংসের দোকানে

চার
তবু দ্যাখো, তরমুজ ক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে আছি আমি
                  মালগাড়ির মতো

দ্যাখো, প্রজাপতির মতো আমার আঙুলগুলো আবার ঝুঁকে পড়েছে
                   সাদা পৃষ্ঠার ওপর

দ্যাখো, হাতে খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি
                    পাখিদের জন্য

দ্যাখো, টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে আবার কিনেছি রঙ পেন্সিল

দ্যাখো, ইস্কুল পালানোর রাস্তাগুলো আমি চিনিয়ে দিচ্ছি ছোটদের

দ্যাখো, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি বেলুন হাতে নিয়ে

দ্যাখো, তোমার পাশে শুয়ে কেমন মরতে ভয় করছে আমার
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------

জলদস্যুর চিঠি

এক

পরিত্যক্ত জাহাজ, যদি ফিরে আসো আবার
দেখবে—
আমাদের সমস্ত দারিদ্র্য আমরা
লুকিয়ে ফেলেছি
তোমার ছেড়ে যাওয়া শূন্য বন্দর
আমরা সাজিয়েছি বাচ্চা মেয়েটির হাসিতে

প্রিয় জাহাজ, অর্জুন আদর্শ নয় আমাদের
আমাদের রক্তে কৃষ্ণের জীবাণু নেই আর
বন্ধুবান্ধবদের বিরুদ্ধে আর অস্ত্র তুলি না আমরা
আমাদের এখন এক নতুন পিয়ানো টিচার
সন্ধেবেলায় এখন পিয়ানো ক্লাশ আমাদের

অভিমানী জাহাজ, তুমি জানলে না
তোমার ঢেউবাড়ির ডাকবাক্স এখন
ভরে যায় নতুন বন্ধুর চিঠিতে
কোনো মৃতদেহ আর তোমার বাড়ির
পাশ দিয়ে যায় না
শান্তি এখন তোমার পাশের বাড়ির বাসিন্দা

জাহাজ, সমাধানের মতো
জটিল প্রশ্নগুলো আমরা তুলি না আর
আমরা এখন নিশ্চুপ হয়ে
ধানক্ষেতের ছড়িয়ে পড়া লক্ষ্য করি
শ্যাওলাদের বিপ্লব এখন আমাদের

পূর্ণ সমর্থন—
জাহাজ, ফিরে এসো আবার
শীতের সার্কাসের মতো
তোমার জন্য দুশ্চিন্তায় ঘুমোতে পারে না তরমুজক্ষেত
তোমার জন্য সারারাত জেগে থাকে লেবুগাছ

জলদস্যুর চিঠি – ২

আবার কবে ছুটে যাবে তুমি এই গরীব জানলার পাশ দিয়ে
আবার কবে বিকেলের হাওয়ায় উড়বে তোমার রঙিন পোশাক
কবে, ওগো, কবে এসে দাঁড়াবে মাথার কাছে

ঘুম থেকে তুলে বলবে—
              ইস্কুলে শেখোনি কিছুই তাতে কি হয়েছে
              কলেজে যাওনি কোনোদিন তাতে কি হয়েছে

চলো, বেড়িয়ে আসি, এই সন্ধেবেলায়, ইস্টার্ণ বাইপাসে
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------

মিতু আইসক্রীম

রেডিও বেজে উঠছে, কাছে, কোথাও—

এই ম্যালেরিয়া, টাইফয়েডের দেশে
এই কাচের বয়ামের দেশে
জন্মনিয়ন্ত্রনের দেশে
কাগজের কুমীরের দেশে
             বেজে উঠছে গান
গান বাজলেই আমার মনে পড়ে আচারের গাড়ি,
মনে পড়ে মিতু আইসক্রীম

এবার গ্রীষ্মে,
আমি একটা আইসক্রীমের গাড়ি ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাবো
               তোমাদের শহরে

এবার গ্রীষ্মে,
আমি আচার বিক্রি করবো তোমাদের পাড়ায়

মিতু, তুমি শোনো গান ?
মিতু, তুমি দোকানে আসো না কেন ?
        দোকানদার কষ্ট পায়

আমাদের জীবনে কোনো উৎসব নেই
শুধু শোনো গান বেজে ওঠে
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সবুজ কালিতে লেখা

লোকে জানুক আমাদের ভালোবাসার কথা
দেখে যাক, দড়িতে মেলা আমাদের ছিন্ন শরীর
               কেমন উড়ছে হাওয়ায়—
ফিরবার পথে তুমি উড়িয়ে রেখো উনুনের ধোঁয়া,
               দু’মুঠো চাল ফুটিয়ে রেখো

লোকে জানুক সন্ধে-সন্ধে বাড়ি ফিরছি আমি
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------

ট্যুরিস্ট

আমি শহরের ছেলে বেড়াতে এসেছিলাম তোমাদের গ্রামে
আমি গ্রামের ছেলে বেড়াতে এসেছিলাম তোমাদের শহরে

বেড়াতে এসেছিলাম শীতের সার্কাসের মতো

ওগো কালো কোট
ওগো কালো টুপি
ওগো কালো চশমা

আমি বেড়াতে এসেছিলাম তোমাদের দেশে
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------

গল্পের বই

সঙ্গে থেকো , সঙ্গে থেকো মেয়েটির
যে তোমাকে লুকিয়ে পড়ে
যে তোমাকে লুকিয়ে রাখে লম্বা অঙ্ক খাতার ভেতর
           হঠাৎ যখন দিদিমণি চলে আসে

তুমিতো দেখেছো ওর অঙ্ক খাতা
দেখেছো প্রতিটি অঙ্ক কেমন বিষন্ন
তুমিতো দেখেছো ও টিফিনবাক্স খুললেই
          পাখিরা কেমন ঘিরে ধরে চারদিক থেকে

শুকনো পাতারা কেমন উড়ে যায় ওর দিকে
ওর খুব ঘুম পায় শেষ বেঞ্চে বসে
অন্য মেয়েরা তখন ক্লাস করে মন দিয়ে
           বাইরে অপেক্ষা করে তাদের ছেলেবন্ধুরা

তুমি ওকে সেই গল্পটা বোলো
যে গল্পে এক রাজকুমার ব্যাঙ সেজে থাকে
যে গল্পে এক রাজকুমার খুব গরীব
           চাকরি খুঁজতে বেরোয়

তুমি ওকে বোলো, সেই রাজকুমার ওর বন্ধু হতে চায়

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

মেলোড্রামা

একটা করুণ জলের রেখা গড়িয়ে যাচ্ছে কমলালেবু বাগানের দিকে
একে কি ভালোবাসা বলবে তুমি ? বলবে বিবাহ?

কি বলবে তুমি ? বলবে না কিছুই ?
রুমালের মতো তবে হারিয়ে যাবো আমরাও?


শুধু আলো জ্বলে ওঠে শোবার ঘরে, আলো নিভে যায়
একে কি ভালোবাসা বলবে তুমি? বলবে বিবাহ ?

পোকাদের আত্মীয় স্বজন ( POKADER ATMIYO-SWOJON ) - PART 1



ওল্ড হোম থেকে

তুমি দেখছো একটা সত্যিকারের বাদুড় কালো ডানা দিয়ে
           ঢেকে রেখেছে রাস্তার আলোগুলোকে

তুমি দেখছো একটা টিপের বাক্সের মধ্যে মারা যাচ্ছে
           একটা সত্যিকারের কাঁচপোকা

তোমার আঙ্গুলগুলো সত্যিকারের মথের মতো ক্লান্ত,
           ঘুমিয়ে পড়ছে সকালবেলায়

তোমার প্রিয় পেন্সিল বদলে যাচ্ছে একটা সত্যিকারের পিস্তলে

যে দেশে কথা বলে না কেউ
সেই দেশে তুমি খরচ করছো তোমার সমস্ত শব্দ

একটা সত্যিকারের ফুটবল মাঠে তুমি দাঁড়িয়ে আছো
                    গোলপোস্টের মতো,
তোমার মাথায় উড়ে এসে বসছে একটা সত্যিকারের কাক
তোমার চুলে লেগে আছে সত্যিকারের বরফকুচি

প্রতিবেশীদের চোখ থেকে থেকে গড়িয়ে নামছে সাদা রঙ,
                    তোমার দু পাশে

জন্মদিনে তুমি লিখে রাখছো –
পাশের বাড়ি বলতে বোঝায় একটা সত্যিকারের মরুভূমি

তোমার বিছানায় সত্যিকারের কোনো পোকা
           উঠে আসেনি কোনোদিন

ম্যাপের ওপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছো তুমি
তোমার মাথার ওপর মাংসের দোকানের মতো একটা সত্যিকারের সূর্য
              জ্বলছে সারাদিন

সন্ধেবেলায় তোমার পাশ দিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ
       যেন তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায়নি কিছুই

যে শহরে তুমি একদিন শীত বয়ে এনেছিলে
সেই শহরের কালো বাড়িগুলো আজ তাড়া করছে তোমাকে

তোমাকে তাড়া করছে একটা হারপুন,
আর তুমি সত্যিকারের মাছের দলে মিশে গিয়ে
         খুঁজছো সত্যিকারের শ্যাওলা

হাসপাতালে নিয়মমতো জ্বলে উঠছে হলুদ আলো,
          চলছে টেলিভিশন

একটা অন্ধকার ট্রেন ছুটে যাচ্ছে রাতের পর রাত,
        তার জানলাগুলো ভেঙ্গে পড়ছে

একটা কালো বিন্দুকে তুমি ভাবতে সত্যিকারের আলো
              ছোটোবেলায়

তুমি খেলতে একটা লোহার হাতুড়ি নিয়ে
তোমার ছোটবেলার একটা জামা এখনো শুকাচ্ছে নিমগাছের ডালে

ইস্কুলবাড়ির মেঝেগুলো ছিলো বরফের,
           তুমি যেতে চাইতে না

একটা সত্যিকারের মাছরাঙ্গা পাখিকে তুমি ভেবেছিলে দিদিমণি

তোমার সঙ্গে কথা বলতো না কেউ

কিভাবে বড় হলে তুমি জানো না
কিভাবে বড় হবে তোমার ছেলেমেয়েরা তুমি জানো না

তুমি দেখছো সন্ত্রাসের দিনগুলো ফিরে আসছে
            কিভাবে আবার
কিভাবে ঘুমিয়ে পড়ছে সত্যিকারের লেবুগাছ

কিভাবে একটা সরলরেখা বদলে যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপে
আর মেয়েরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে চলে যাচ্ছে
              বাঁশি বাজাতে বাজাতে

হাওয়ার রাস্তায় হাওয়া নেই
বৃষ্টির রাস্তায় বৃষ্টি নেই
চাকরি নেই

তুমি দেখছো তোমার মাথার বদলে
      একটা সত্যিকারের মার্বেলের মাথা

তোমার হাতের বদলে সত্যিকারের মার্বেলের হাত

প্রতিদিন তোমার দিকে একটু একটু করে এগিয়ে আসছে
         পাঁচ মাইল একটা বরফখন্ড

তোমার স্বপ্নে গেঁথে যাচ্ছে একটা বরফের ছুরি

ঘুমের ঢালু পথ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছো তুমি
ঘুমিয়ে পড়ার আগে সংগ্রহ করে রেখে যেতে চাইছো
              সেই শহরের ধূলো

যেখানে একদিন হাত ধরে হেঁটে যেতো মেয়েরা ও ছেলেরা

বস্তি থেকে সংগ্রহ করে রাখছো উনুনের ধোঁয়া


সংগ্রহ করে রাখছো রেন ফরেস্ট

ব্লাকবোর্ডের জঙ্গল থেকে সংরহ করে রাখছো
     ছোটদের হারিয়ে যাওয়া নীল জুতো

সংগ্রহ করে রাখছো মৌসুমী বাতাস,
       তার প্রতিধ্বনি

সংগ্রহ করে রাখছো একটা সত্যিকারের লেবুপাতা

তুমি পড়ে যাচ্ছো একটা বিশাল গর্তে,
       পালকের মত ভাসতে ভাসতে
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
          
            হিমযুগ -১

আমাদের হাড়, পালক কুড়োতে এসেছে
           ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা
কুড়োতে এসেছে ভিজে পায়ে, বরফ উড়িয়ে

ভিজে বরফের ওপর আমরা লিখতাম
ভিজে বরফের ভাষায় আমরা লিখতাম
লিখে রেখেছিলাম বোকার মতো, সব ঠিক হয়ে যাবে দেখো

আমাদের সেই বর্ণমালা, পরপর সাজানো অক্ষর, পিঁপড়েরা
দলবেঁধে পিঁপড়েরা নিয়ে যাচ্ছে বরফের ভেতর
প্রিয় প্রতিশ্রুতি, আমাদের ব্যর্থতা, শীতের খাবার তাদের

            হিমযুগ-২

কারা ছড়িয়ে রেখেছে বরফ আমাদের সারা ঘরময়
কারা কেড়ে নিয়েছে আমাদের দরজা জানলা

আমরা চিঠিতে লিখি, ভালো আছি
আমাদের খুঁজতে যেওনা বরফের দেশে
আমরা শুয়ে আছি যে যার বরফের বিছানায়
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
       
             কাঠের পৃথিবী থেকে

আর একদিন, বাড়ি ফিরে এসে তুমি দেখলে—
তোমার বিছানায় শুয়ে আছে একটা কাঠের দরজা
                    ঠিক তোমার মতো

তুমি দেখলে—
কাঠের দরজাটাকে ফেলে কাঠের জানলাগুলো উড়ে যাচ্ছে
             নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতে করতে

তোমার মনে পড়লো –
ঠিক এইভাবে তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো প্রতিটি রাস্তার মোড়,
                        প্রতিটি শোবার ঘর

তোমার মনে পড়লো—
বাড়ির বদলে তুমি চেয়েছিলে একটা কাঠের ঘোড়া,
তুমি চেয়েছিলে, কাঠের ঘোড়াটার পেটের মধ্যে লুকিয়ে
                 পালিয়ে যেতে তোমার বাড়ি থেকে

তুমি চেয়েছিলে, অন্ধকার আর ডাক্তারদের এই দেশ থেকে
চলে যেতে একেবারে
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
        ভাসা

তুমি পেরিয়ে এলে দরজা,
দরজার হাতলের শাসন

তুমি পেরিয়ে এলে রান্নাঘর,
স্নানঘরের অন্ধকার দেওয়াল

তুমি পেরিয়ে এলে নারীদিবস,
শ্রমিকদিবস, অফসেট মেশিন

তুমি পেরিয়ে এলে ফাঁকা গেলাস,
মদের বোতল, বোতলে ভাসানো চিঠি

তুমি পেরিয়ে এলে তোমার জীবন
একটুকরো বরফের মতো ভাসতে ভাসতে