ওল্ড
হোম থেকে
তুমি
দেখছো একটা সত্যিকারের বাদুড় কালো ডানা দিয়ে
ঢেকে রেখেছে রাস্তার আলোগুলোকে
তুমি দেখছো একটা টিপের বাক্সের মধ্যে মারা যাচ্ছে
একটা সত্যিকারের কাঁচপোকা
তোমার আঙ্গুলগুলো সত্যিকারের মথের মতো ক্লান্ত,
ঘুমিয়ে পড়ছে সকালবেলায়
তোমার প্রিয় পেন্সিল বদলে যাচ্ছে একটা সত্যিকারের পিস্তলে
যে
দেশে কথা বলে না কেউ
সেই
দেশে তুমি খরচ করছো তোমার সমস্ত শব্দ
একটা
সত্যিকারের ফুটবল মাঠে তুমি দাঁড়িয়ে আছো
গোলপোস্টের মতো,
তোমার
মাথায় উড়ে এসে বসছে একটা সত্যিকারের কাক
তোমার
চুলে লেগে আছে সত্যিকারের বরফকুচি
প্রতিবেশীদের চোখ থেকে থেকে গড়িয়ে নামছে সাদা রঙ,
তোমার দু পাশে
জন্মদিনে তুমি লিখে রাখছো –
পাশের
বাড়ি বলতে বোঝায় একটা সত্যিকারের মরুভূমি
তোমার বিছানায় সত্যিকারের কোনো পোকা
উঠে আসেনি কোনোদিন
ম্যাপের
ওপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছো তুমি
তোমার
মাথার ওপর মাংসের দোকানের মতো একটা সত্যিকারের সূর্য
জ্বলছে সারাদিন
সন্ধেবেলায় তোমার পাশ দিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ
যেন তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায়নি
কিছুই
যে শহরে তুমি একদিন শীত বয়ে এনেছিলে
সেই
শহরের কালো বাড়িগুলো আজ তাড়া করছে তোমাকে
তোমাকে তাড়া করছে একটা হারপুন,
আর
তুমি সত্যিকারের মাছের দলে মিশে গিয়ে
খুঁজছো সত্যিকারের শ্যাওলা
হাসপাতালে নিয়মমতো জ্বলে উঠছে হলুদ আলো,
চলছে টেলিভিশন
একটা অন্ধকার ট্রেন ছুটে যাচ্ছে রাতের পর রাত,
তার জানলাগুলো ভেঙ্গে পড়ছে
একটা কালো বিন্দুকে তুমি ভাবতে সত্যিকারের আলো
ছোটোবেলায়
তুমি খেলতে একটা লোহার হাতুড়ি নিয়ে
তোমার
ছোটবেলার একটা জামা এখনো শুকাচ্ছে নিমগাছের ডালে
ইস্কুলবাড়ির মেঝেগুলো ছিলো বরফের,
তুমি যেতে চাইতে না
একটা সত্যিকারের মাছরাঙ্গা পাখিকে তুমি ভেবেছিলে দিদিমণি
তোমার সঙ্গে কথা বলতো না কেউ
কিভাবে
বড় হলে তুমি জানো না
কিভাবে
বড় হবে তোমার ছেলেমেয়েরা তুমি জানো না
তুমি দেখছো সন্ত্রাসের দিনগুলো ফিরে আসছে
কিভাবে আবার
কিভাবে
ঘুমিয়ে পড়ছে সত্যিকারের লেবুগাছ
কিভাবে একটা সরলরেখা বদলে যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপে
আর
মেয়েরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে চলে যাচ্ছে
বাঁশি বাজাতে বাজাতে
হাওয়ার রাস্তায় হাওয়া নেই
বৃষ্টির
রাস্তায় বৃষ্টি নেই
চাকরি
নেই
তুমি দেখছো তোমার মাথার বদলে
একটা সত্যিকারের মার্বেলের মাথা
তোমার হাতের বদলে সত্যিকারের মার্বেলের হাত
প্রতিদিন তোমার দিকে একটু একটু করে এগিয়ে আসছে
পাঁচ মাইল একটা বরফখন্ড
তোমার স্বপ্নে গেঁথে যাচ্ছে একটা বরফের ছুরি
ঘুমের ঢালু পথ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছো তুমি
ঘুমিয়ে
পড়ার আগে সংগ্রহ করে রেখে যেতে চাইছো
সেই শহরের ধূলো
যেখানে একদিন হাত ধরে হেঁটে যেতো মেয়েরা ও ছেলেরা
বস্তি থেকে সংগ্রহ করে রাখছো উনুনের ধোঁয়া
সংগ্রহ করে রাখছো রেন ফরেস্ট
ব্লাকবোর্ডের জঙ্গল থেকে সংরহ করে রাখছো
ছোটদের হারিয়ে যাওয়া নীল জুতো
সংগ্রহ করে রাখছো মৌসুমী বাতাস,
তার প্রতিধ্বনি
সংগ্রহ করে রাখছো একটা সত্যিকারের লেবুপাতা
তুমি পড়ে যাচ্ছো একটা বিশাল গর্তে,
পালকের মত ভাসতে ভাসতে
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
হিমযুগ -১
আমাদের হাড়, পালক কুড়োতে এসেছে
ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা
কুড়োতে
এসেছে ভিজে পায়ে, বরফ উড়িয়ে
ভিজে বরফের ওপর আমরা লিখতাম
ভিজে
বরফের ভাষায় আমরা লিখতাম
লিখে
রেখেছিলাম বোকার মতো, সব ঠিক হয়ে যাবে দেখো
আমাদের
সেই বর্ণমালা, পরপর সাজানো অক্ষর, পিঁপড়েরা
দলবেঁধে
পিঁপড়েরা নিয়ে যাচ্ছে বরফের ভেতর
প্রিয়
প্রতিশ্রুতি, আমাদের ব্যর্থতা, শীতের খাবার তাদের
হিমযুগ-২
কারা ছড়িয়ে রেখেছে বরফ আমাদের সারা ঘরময়
কারা
কেড়ে নিয়েছে আমাদের দরজা জানলা
আমরা
চিঠিতে লিখি, ভালো আছি
আমাদের
খুঁজতে যেওনা বরফের দেশে
আমরা
শুয়ে আছি যে যার বরফের বিছানায়
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কাঠের পৃথিবী থেকে
আর একদিন, বাড়ি ফিরে এসে তুমি দেখলে—
তোমার
বিছানায় শুয়ে আছে একটা কাঠের দরজা
ঠিক তোমার মতো
ঠিক তোমার মতো
তুমি দেখলে—
কাঠের
দরজাটাকে ফেলে কাঠের জানলাগুলো উড়ে যাচ্ছে
নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতে করতে
তোমার মনে পড়লো –
ঠিক
এইভাবে তোমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো প্রতিটি রাস্তার মোড়,
প্রতিটি শোবার ঘর
তোমার মনে পড়লো—
বাড়ির
বদলে তুমি চেয়েছিলে একটা কাঠের ঘোড়া,
তুমি
চেয়েছিলে, কাঠের ঘোড়াটার পেটের মধ্যে লুকিয়ে
পালিয়ে যেতে তোমার বাড়ি থেকে
তুমি
চেয়েছিলে, অন্ধকার আর ডাক্তারদের এই দেশ থেকে
চলে
যেতে একেবারে
----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
ভাসা
তুমি পেরিয়ে এলে দরজা,
দরজার
হাতলের শাসন
তুমি পেরিয়ে এলে রান্নাঘর,
স্নানঘরের
অন্ধকার দেওয়াল
তুমি পেরিয়ে এলে নারীদিবস,
শ্রমিকদিবস,
অফসেট মেশিন
তুমি পেরিয়ে এলে ফাঁকা গেলাস,
মদের
বোতল, বোতলে ভাসানো চিঠি
তুমি পেরিয়ে এলে তোমার জীবন
একটুকরো
বরফের মতো ভাসতে ভাসতে
